রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৪ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
বেলকুচিতে পুলিশ প্রশাসনের সাথে পূজা উদযাপন কমিটির মতবিনিময় চৌহালীর সদিয়া চাঁদপুরে ফাইনালে এলোংগীকে হারিয়ে চর উল্লাপাড়া চ্যাম্পিয়ন বড়ধুল ইউনিয়নে জি আর সরকারি চাউল বিতরণে দুর্নীতি অনিয়মের নিউজ করায় সাংবাদিকদের নামে মিথ্যা চাঁদাবাজির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ বেলকুচিতে ৩ মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিছন্নতা অভিযান আজ শুরু ভাঙ্গাবাড়ী ইউনিয়ন ১নং ওয়ার্ড মেম্বার পদপ্রার্থী হিসেবে জনগনের দোয়া ও সমর্থন চান মোঃ মোতালেব প্রামানিক ভাঙ্গাবাড়ী ইউনিয়ন ২নং ওয়ার্ড মেম্বার পদপ্রার্থী হিসেবে জনগনের দোয়া ও সমর্থন চান মোঃ সুজন খাঁন বেলকুচিতে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলকে সুসংগঠিত করতে বিএনপির মতবিনিময় সভা বেলকুচিতে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার প্রস্তুতিমূলক আলোচনা সভা বেলকুচিতে আন্তর্জাতিক স্বাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত বেলকুচিতে যমুনার বুকে পানসি ও কোষা নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত

লোডশেডিং, সিরাজগঞ্জের তাঁত শিল্পে জালানি ব্যয় বাড়ায় তাঁতশিল্প বন্ধের পথে

  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১০৪ বার পঠিত

 

রেজাউল করিম নিজস্ব প্রতিনিধি:

তাঁত শিল্পের সব কিছু এখন উলোটপালোট হয়ে যাচ্ছে। একটি জামদানি শাড়ি পাওয়ারলুমে (বিদ্যুৎ চালিত তাঁত) আগে উৎপাদন খরচ হতো ৪০ টাকা। কিন্তু বর্তমানে সেটা ডিজেল চালিত জেনারেটরে খরচ বেড়ে চার গুন হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিটি শাড়ি তৈরীতে জালানি খরচ হচ্ছে ১৬০ টাকা। এখন বিদ্যুৎ ও জালানি সংকটে তাঁত শিল্পে হাহাকার শুরু হয়েছে। কথা গুলো এভাবেই হতাশার সুরে বলেছেন কয়েক যুগ ধরে তাঁত ব্যবসার সাথে যুক্ত খামারগ্রামের তাঁত ব্যবসায়ী আলহাজ্ব আফজাল হোসেন লাভলু।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিন চৌহালী উপজেলাধীন এনায়েতপুর থানার খামার গ্রামে লাভলু-বাবলু কম্পোজিট টেক্সটাইলের তাঁত কারখানা ঘুরে দেখা গেছে, ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুৎ না থাকায় বিদ্যুৎ চালিত তাঁত পাওয়ার লুম মেশিন বন্ধ করে শ্রমিকরা বাহিরে বসে লুডু খেলছে। অনেকে মোবাইলে গান শুনছে, আবার কেউ অলস সময় কাটাচ্ছে ।

খামারগ্রামের তাঁত শ্রমিক জুলমাত বলেন, বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের ফলে কাপড় তৈরী করতে পারছি না। অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ থাকে না। কাজ না থাকায় সংসারের ব্যয় নির্বাহ এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। দেনা করে চলতে হচ্ছে।

শ্রমিক শহিদুল, জামাল ও সোলায়মান জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় তাঁত বন্ধ, ডিজেলও পাওয়া যাচ্ছে না তাই মেশিন বন্ধ রয়েছে। বাধ্য হয়ে লুডু খেলে সময় পার করছি।

এদিকে মালিকপক্ষ বলছেন, অতিরিক্ত মূল্য দিয়েও চাহিদামত জালানি পাওয়া যাচ্ছে না। প্রান্তিক পর্যায়ের তাঁতিদের কাপড় উৎপাদন কষ্ট সাধ্য হয়ে পড়েছে। উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। সময়মতো অর্ডার ডেলিভারি দিতে না পারায় তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অনেকেই পেশা বদল করছে। বন্ধ হয়ে যাচ্ছে তাঁত কল। কেউ কেউ ব্যাংক লোন নিয়ে টিকে থাকার আপ্রাণ চেষ্টা করছে।

শিল্প-সংশ্লিষ্টদের মতে, তাঁত কুঞ্জ ব্র্যান্ডিং জেলা সিরাজগঞ্জ। একসময় দেশের অন্যতম প্রধান ঐতিহ্যবাহী শিল্প হিসেবে পরিচিত ছিল। বেলকুচি ও এনায়েতপুর সহ জেলার ৯টি উপজেলায় প্রায় ১০ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত ছিল। পাওয়ারলুম ও হ্যান্ডলুম মিলিয়ে জেলায় প্রায় পাঁচ লাখ তাঁত ছিল। তবে অব্যাহত লোডশেডিং ও জালানি সংকট সহ কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি, বাজারের অস্থিরতা ও নীতিগত সমস্যার কারণে ইতিমধ্যে বহু তাঁতকল বন্ধ হয়ে গেছে।

ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে তাঁতে কাপড় উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। তবে জালানি খরচ বেড়েছে কয়েক গুন। দিনের বেশিরভাগ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শ্রমিকরা বেকার বসে থাকছেন।

এবিষয়ে জাতীয় তাঁতি সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুস ছামাদ খান বলেন, বড় বড় তাঁত কারখানা মালিকেরা চড়া দামে ডিজেল কিনে চারগুন খরচ বৃদ্ধি করে কাপড় তৈরী করছে। বাজারে টিকে থাকার লড়াই করছে। তবে প্রান্তিক তাঁতীরা, যাদের ৫-১০ তাঁত তারা বিপাকে পড়ে তাঁতকল বন্ধ করে দিচ্ছে। ইতোমধ্যে জেলার ৫ লাখের মধ্যে জেনারেটর (ডিজেল চালিত) ও হস্তচালিত দুই লাখ বাদে বাকি তাঁতকল বন্ধ হবার পথে। এতে প্রায় কয়েক লাখ মানুষ বেকার হয়ে পড়বে। দ্রুত সকল সংকট ও সমস্যা নিরসন করতে হবে। না হলে ধ্বংসের মুখে পড়বে ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্প।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫ দৈনিক আমার দিনকাল
Customized By BlogTheme