
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
যমুনার এপারে সম্ভাবনাময় জনপদ এনায়েতপুর। রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, উন্নত চিকিৎসাসেবার কেন্দ্র, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিপুল জনবসতি। অথচ প্রশাসনিক সেবা নিতে এখনো নানা ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হয় এ অঞ্চলের মানুষকে। যমুনা নদী পেরিয়ে সরকারি দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করতে গিয়ে সময়, অর্থ ও শ্রম ব্যয় করতে হয় সাধারণ মানুষকে। দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে এনায়েতপুরকে পূর্ণাঙ্গ উপজেলা হিসেবে ঘোষণার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এ দাবিকে আরও জোরালো করতে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) এনায়েতপুর প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ‘নাগরিক চিন্তা ও চায়ের আড্ডা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এনায়েতপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুস সামাদ খানের সভাপতিত্বে এবং সহসভাপতি মুক্তার হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় আহ্বায়ক হিসেবে এম ওয়াহিদুজ্জামান বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করেন। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়ে এনায়েতপুরকে উপজেলা ঘোষণার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, এনায়েতপুরের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক সেবার ক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতা ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। জরুরি প্রয়োজনে সরকারি দপ্তরে যাতায়াত করতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে বাড়তি সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হয়। বিশেষ করে রোগী, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও বয়স্ক মানুষের জন্য এই ভোগান্তি আরও কষ্টকর হয়ে ওঠে। একটি উপজেলা প্রতিষ্ঠিত হলে প্রশাসনিক সেবা মানুষের আরও কাছে পৌঁছাবে, কমবে যাতায়াতের দুর্ভোগ, বাড়বে উন্নয়নের গতি।
বক্তারা আরও বলেন, এনায়েতপুর শুধু একটি জনবসতিপূর্ণ অঞ্চল নয়; শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও জনসেবার ক্ষেত্রেও এর রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান। এখানে রয়েছে এনায়েতপুর থানা, দেশের অন্যতম পরিচিত চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, এনায়েতপুর ফাজিল মাদ্রাসা, এনায়েতপুর ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, বেতিল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, খামারগ্রাম ডিগ্রি কলেজ, মৎস্য ইনস্টিটিউট ও মৎস্য ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
এতসব সম্ভাবনা ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান থাকা সত্ত্বেও এনায়েতপুর উপজেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে দীর্ঘদিনের আক্ষেপ রয়েছে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, এনায়েতপুর উপজেলা হলে সরকারি সেবা গ্রহণ সহজ হবে, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার আরও সম্প্রসারণ ঘটবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন গতি আসবে।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির উপদেষ্টা আলহাজ্ব সাইদুল ইসলাম। এ ছাড়া বক্তব্য দেন এনায়েতপুর ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মতিন মিয়া, এনায়েতপুর ফাজিল মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক আব্দুস ছালাম, এনায়েতপুর থানার যুগ্ম আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম লেবু, সানোয়ার বেপারী, এনায়েতপুর থানা জামায়াতের আমির ডা. সেলিম রেজা, থানা যুবদলের আহ্বায়ক জাহিদ হোসেন জহিরুল, খুকনী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, এনায়েতপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রফিক মোল্লা, এনায়েতপুর ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আইনুল হক, ধুলিয়াবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোশারফ হোসেন, সমাজসেবক আজম খান, সাংবাদিক বাবু মির্জা, সোহেল রানা ও ইয়াহিয়াসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিবর্গ।
বক্তারা এনায়েতপুরকে উপজেলা ঘোষণার দাবিকে শুধু প্রশাসনিক মর্যাদা অর্জনের বিষয় নয়, বরং এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা, অধিকার ও উন্নয়নের আকাঙ্ক্ষা হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁদের মতে, উপজেলা প্রতিষ্ঠিত হলে স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি কার্যক্রমের পরিধি বাড়বে এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ভোগান্তি কমানোর পথ সুগম হবে।
এ সময় স্থানীয়রা সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আমিরুল ইসলাম খান আলিমের আন্তরিক উদ্যোগ কামনা করেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি এনায়েতপুরকে উপজেলা ঘোষণার দাবিটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
এনায়েতপুরের মানুষের প্রত্যাশা—প্রশাসনিক সেবা পেতে আর যেন নদী পেরিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে না হয়, জরুরি প্রয়োজনে যেন সময় ও অর্থের অপচয় না ঘটে। যমুনার এপারের মানুষের দীর্ঘদিনের এই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়িত হলে এনায়েতপুরের উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।