
নিজস্ব প্রতিনিধি:
ঢাকার আশুলিয়ায় সাইফুল ইসলাম মোমিন নামে এক ব্যক্তিকে অপহরণ করে নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গত ২৫ অক্টোবর ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেছেন তাঁর স্ত্রী আনিছা খাতুন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় সাইফুলের পথরোধ করে একদল ব্যক্তি জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে ফ্যান্টাসি কিংডমের পেছনের একটি বাঁশঝাড়ে নিয়ে তাঁকে নির্যাতন করা হয়। এ সময় তাঁর বাম পায়ের গোড়ালির ওপর ছিদ্র করা হয়, বাম হাতের দুটি আঙুলের নখ তুলে ফেলা হয় এবং লোহার রড দিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার বাদী আনিছা খাতুনের অভিযোগ, এ সময় সাইফুলের কাছ থেকে নগদ ৬২ হাজার টাকা, ১৫ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের একটি ভিভো মোবাইল ফোন এবং ৩ হাজার টাকা মূল্যের একটি বাটন ফোন নিয়ে যায় অভিযুক্তরা। খোয়া যাওয়া টাকা ও মালামালের মোট মূল্য ৮০ হাজার ৫০০ টাকা।
পরে সাইফুলকে বাইপাইল এলাকার সাহারা মডার্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁকে দুর্ঘটনায় আহত হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। এরপর বিভিন্ন হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলে। গত ১৩ অক্টোবর বুকে ব্যথা অনুভব করার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা টাঙ্গাইলে তাঁর মরদেহ দাফন করেন।
এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম (পিপিএম) জানান, জামগড়া এলাকায় সাইফুল ইসলাম মোমিনকে অপহরণ ও নির্যাতনের পর হাসপাতালে তাঁর মৃত্যুর বিষয়ে পুলিশ আগে অবগত ছিল না। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা করেনি।
ওসি আরও জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে আদালতে মামলা করার বিষয়টি জানতে পেরেছেন। মামলাটি তদন্তের জন্য আশুলিয়া থানায় পাঠানো হলে পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে।