রেজাউল করিম নিজস্ব প্রতিনিধি :
‘মানুষ মানুষের জন্য, মানবতার সেবায় সিরাজগঞ্জ জেলা অনন্য’—এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়েছে স্বেচ্ছাসেবী মিলনমেলা-২০২৬। জেলার নয়টি উপজেলার প্রায় এক হাজার স্বেচ্ছাসেবীর অংশগ্রহণে দিনব্যাপী এ আয়োজনে মানবিক কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিত ও সম্প্রসারণের প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল ৮টায় যমুনা নদীর তীরে বিসিক শিল্প পার্কের ৩ নম্বর ক্রসবার এলাকায় সিরাজগঞ্জ জেলা সম্মিলিত স্বেচ্ছাসেবী পরিষদের উদ্যোগে এ মিলনমেলা শুরু হয়। দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে ছিল পারস্পরিক মতবিনিময়, আলোচনা সভা, নতুন কমিটি গঠন, টি-শার্ট বিতরণ ও মধ্যাহ্নভোজসহ নানা আয়োজন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) গণপতি রায়। এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
মিলনমেলায় স্বেচ্ছাসেবীদের কণ্ঠভোটে সিরাজগঞ্জ জেলা সম্মিলিত স্বেচ্ছাসেবী পরিষদের নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়। এতে সভাপতি নির্বাচিত হন র ই মানিক, সাধারণ সম্পাদক মামুন বিশ্বাস এবং সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ রজব। নির্বাচিত এই তিনজনের সমন্বয়ে আগামী এক মাসের মধ্যে জেলার প্রতিটি উপজেলা থেকে দুজন করে স্বেচ্ছাসেবী নিয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, স্বেচ্ছাসেবা শুধু ব্যক্তিগত উদ্যোগ নয়, এটি সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ ও মানবিক দায়বদ্ধতার বহিঃপ্রকাশ। সমাজের অসহায়, সুবিধাবঞ্চিত ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সম্মিলিত উদ্যোগের বিকল্প নেই। স্বেচ্ছাসেবীদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, ঐক্য ও সমন্বয় বাড়ানো গেলে জেলার সামাজিক উন্নয়ন এবং মানবিক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা সম্ভব।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম স্বেচ্ছাসেবীদের মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, মানুষের কল্যাণে কাজ করার মানসিকতা সমাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভালো কাজ করার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকেও মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কাজে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) গণপতি রায় স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডে ঐক্য, শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি মানবিক কাজে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং মানুষের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে র ই মানিক বলেন, প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সামান্য সহযোগিতা করলেও অনেক মানুষের কষ্ট লাঘব করা সম্ভব। মানুষের জন্য কিছু করতে পারাই জীবনের সার্থকতা।
সাধারণ সম্পাদক মামুন বিশ্বাস বলেন, সবাই নিজ নিজ পরিবার ও কর্মজীবনের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অবসর সময়টুকু মানুষের কল্যাণে ব্যয় করার চেষ্টা করবেন। এখানে পদ-পদবি মুখ্য নয়, সবাই এক। সম্মিলিতভাবে পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই তাঁদের লক্ষ্য।
দিনব্যাপী আয়োজনের সমাপনী পর্বে আয়োজকেরা স্বেচ্ছাসেবীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি, ঐক্য ও সহযোগিতার বন্ধন অটুট রাখার আহ্বান জানান। পাশাপাশি মানবিক কার্যক্রমকে কেবল আনুষ্ঠানিক আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সারা বছর মানুষের প্রয়োজনে পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। নতুন কমিটির নেতৃত্বে জেলার নয়টি উপজেলায় সমন্বিত স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম গড়ে তোলার আশাবাদ নিয়ে মিলনমেলার সমাপ্তি ঘটে।